Published : 03 Jul 2026, 11:40 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া নথিপত্রে চৌর্যবৃত্তির প্রাথমিক সত্যতা উঠে আসার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং তাদের আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তকারী দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের মনোনীত প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় অস্ট্রেলিয়ায় জমা দেওয়া রিদওয়ানুল হকের একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের প্রায় শতভাগ মিল থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে অতীতে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে যে পরবর্তী সময়ে তৎকালীন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ এই অনিয়মসহ অধ্যাপক রিদওয়ানুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করে। এই স্মারকলিপি পাওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মতামত জানতে চায়। তখন বিজনেস অনুষদের ডিন অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ রয়েছে।
একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে নতুন করে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন অথবা সরাসরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মতামত চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন। এই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করেছে।।